বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

নারীদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা

জীবন যাপন ডিসেম্বর ২৩, ২০২১, ১২:২২ পিএম
নারীদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা

নারী। মা, বোন, স্ত্রী কিংবা প্রেমিকা- যে নামেই ডাকা হোক নামটির সঙ্গে রয়েছে আলাদা মায়া এবং ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা।
পরিবারের কেউ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সবার আগে দৌড়ে আসে এই একটি মানুষই। অথচ নিজের যত্নের বরাবরই বড্ড আনাড়ি
এই মানুষগুলো। তাই স্বাস্থ্য সমস্যায় নারীদেরই বেশিরভাগ ভুগতে দেখা যায় বিভিন্ন সময়। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে জেনে
নিন নারীদের কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা। যেগুলো প্রত্যেকটি নারীরই করে রাখা উচিৎ।

১. থাইরয়েড: বর্তমানে নারীরা সবচেয়ে বেশি এই রোগটিই মোকাবেলা করে থাকেন। কেউ হাইপোথ্যারয়ডিজমে ভোগেন
আবার অনেকে হাইপারথ্যারয়ডিজমে। পা ফোলা, হাত-পা ও জয়েন্টগুলোতে ব্যথা থাইরয়েড সমস্যার সাধারণ উপসর্গ।
হাইরয়েডের পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত আগেভাগেই।

২. প্যাপ স্মিয়ার: নারীদের মধ্যে যেসব ক্যান্সারের ঝুঁকি দিনে দিনে বাড়ছে তার মধ্যে অন্যতম হলো সার্ভিক্যাল ক্যান্সার।
আর সার্ভিক্যাল ক্যান্সার রোধেই করা হয় প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষাটি। এটি একটি অত্যন্ত সহজ পরীক্ষা যা অধিকাংশ সাধারণ
মানুষই উপেক্ষা করে থাকে। প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা চল্লিশোর্ধ্ব মহিলাদের আবশ্যক।

৩. ম্যামোগ্রাম: স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একটি সহজ ম্যামোগ্রাম পরীক্ষা। যদি
পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস থেকে থাকে তবে এই পরীক্ষা করে নেয়া অতি আবশ্যক।

৪. হৃদরোগ: নিয়মিত চেকআপে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট থেকে আকস্মিক মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়।

৫. হাড়ের ঘনত্ব/ভিটামিন ডি স্বল্পতা: চল্লিশের পরে নারীদের হাড়ের ঘনত্বের পরীক্ষা অত্যন্ত দরকারী। এটি অস্থিভঙ্গ
প্রতিরোধ করে। এছাড়া ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড়ে ক্ষয় এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। চল্লিশোর্ধ্ব মহিলাদের
ভিটামিন ‘ডি’-এর বেশি প্রয়োজন যা ক্যালসিয়াম শোষণ করে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। তাই ভিটামিন ডি-এর মাত্রা
পরীক্ষা করা খুবই প্রয়োজন।

৬. ডায়াবেটিস: চল্লিশোর্ধ্ব মহিলারা টাইপ-টু ডায়াবেটিসে বেশি আক্রান্ত হন। শরীর গ্লুকোজের সমত্ব বজায় রাখার জন্য
যথেষ্ট ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না, তাই ডায়াবেটিসের হানা রুখতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

৭. ওভারিয়ান ক্যান্সার: মহিলাদের মধ্যে ওভারিয়ান ক্যান্সার বেশিরভাগই মেনোপজের পরে দেখা যায়। তাই ওভারিয়ান
ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে ঋতুজরার আগেই মহিলাদের নির্দিষ্ট পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত।

৮. রক্তচাপ ও চোখ: নারীদের মাসিক বন্ধ হওয়ার পরে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা খুব বেশি মাত্রায় দেখা যায়। তাই তার
আগেই এটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।

৯. কিডনি: নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করে যাওয়া রোগগুলোর মধ্যে একটি কিডনি সংক্রান্ত রোগগুলো। সাধারণ
অভ্যাসবশতই নারীদের মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান করতে দেখা যায় না। ফলশ্রুতিতে সমস্যার কঠিন রূপ নিতে পারে কিডনির
বিভিন্ন সমস্যার মাধ্যমে। তাই নির্দিষ্ট পানি পান যেমন জরুরি, খেয়াল রাখা উচিত কিডনিরও। বয়স কোনো ব্যাপার নয়,
সচেতনতাই মুখ্য।

Side banner