রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমনে পর্যটকের উপর আরোপিত বিধি নিষেধ কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। আগের বছর ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে পর্যটক যেতে পারতো ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু এবার ১৫ দিন বাড়িয়ে তা ১৫ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেন্টমার্টিন যাতায়াতে পর্যটকদের জনপ্রতি ১০০ টাকা 'পরিবেশ সংরক্ষণ ফি' দিতে হবে।
আগে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ পেতেন। এবার এ সংখ্যা বেড়ে প্রতিদিন সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ পাবেন সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক। যথা নিয়মে অনুমতি নিয়ে নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকেই ছাড়বে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে পরিবেশগত সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক গমনসংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক গমন নিয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত পর্যটকরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন পর্যটকের সংখ্যা গড়ে ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি হবে না। এ ছাড়া নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অননুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণকারী প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ইকোসিস্টেম ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৬-এর বিধি-২৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে অন্যান্য সিদ্ধান্ত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনার সব শর্ত বহাল থাকবে।
গেলো বছরের ২২ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনার শর্ত মতে, জাহাজের টিকিট কাটার সময় বা ভ্রমণের জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বা ট্রাভেল পাস (কিউআর কোডযুক্ত) থাকা বাধ্যতামূলক। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নভেম্বর মাসে রাত্রি যাপন করা যাবে না। রাত্রি যাপনের সুযোগ পাবে ডিসেম্বর থেকে। দ্বীপে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক (প্লাস্টিক ব্যাগ, বোতল ইত্যাদি) বহন বা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সমুদ্র সৈকতে রাতের বেলা আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান বাজানো, বারবিকিউ করা এবং যান্ত্রিক মোটরযান চালানো নিষিদ্ধ। পরিবেশ রক্ষার্থে ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটকদের গমনাগমনের ওপর কড়াকড়ি বা নিষেধাজ্ঞা থাকে।
তবে এ চিঠিটি এখন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছেনি বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখা।