বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

আঙুর চাষের স্বপ্ন শুরু ৩০ টাকায়, এখন আয় লাখ টাকা

জীবন যাপন এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
আঙুর চাষের স্বপ্ন শুরু ৩০ টাকায়, এখন আয় লাখ টাকা

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার খবদার গ্রামের কৃষকের সন্তান ও তরুণ উদ্যোক্তা মো. ফরহাদ হোসেন (২৮)। ছোটবেলা থেকেই তার কৃষির প্রতি আগ্রহ ছিল। 

ফরহাদ বলেন, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে ৩০ টাকায় স্থানীয় বাজার থেকে একটি আঙুরের চারা কিনেছিলাম। এক বছর পর ওই গাছে ফল ধরলেও তা ছিল একটু টক স্বাদের। সেই অভিজ্ঞতা তাকে মিষ্টি আঙুর চাষে আগ্রহী করে তোলে। শৈশবের অভিজ্ঞতা বাস্তবে রূপ দিয়ে মিষ্টি আঙুর চাষে সফলতা পেয়েছেন ফরহাদ।

দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উদ্যোগ নেন আঙুর চাষের। শুরুতে মাত্র ১২টি চারা লাগিয়ে ছয় মাসের মধ্যেই চমৎকার ফলন পান। আর সেই আঙুর ছিল মিষ্টি জাতের। এতে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি আরও প্রায় ২৫টি উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করেন।

বাড়ির পাশের ছোট একটি জায়গায় গড়ে তোলা বাগানে তার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। চলতি বছরেই তিনি প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করেছেন। আগামী বছরে এ আয় ২ থেকে ৩ লাখ টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন ফরহাদ।

ফরহাদ জানান, তার বাগানে বারোমাসি জাতের আঙুর চাষ করা হচ্ছে। বাইকুনুর, একুলা, ডিক্সন, গ্রিন লং, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বো, সুপার সোনাকা, অস্ট্রেলিয়ান কিং, ভেলেস, প্রেস্টিজ, ইয়ামিন, ড্রিম অব পর্তুগাল, গোল্ডেন সান মাসকাট, জেসমিন ও গোল্ডেন সিক্রেট ড্রিমসহ প্রায় ২৫টি জাত রয়েছে। এসব আঙুরের রং ও আকারে বৈচিত্র্য থাকলেও স্বাদে সবই মিষ্টি।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, কিছু জাত বারোমাসি হওয়ায় সারা বছরই কমবেশি ফল পাওয়া যায়। আঙুর গাছ দীর্ঘমেয়াদী। একেকটি গাছ ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ফলে এই খাত থেকে নিয়মিত আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

ফরহাদ বলেন, তার বাগানের আঙুর বাজারে প্রচলিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তারা প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে কিনছেন। দেশে উৎপাদিত নিরাপদ ও মিষ্টি আঙুর জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, দেশে আঙুর চাষ একটি সম্ভাবনাময় খাত। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির মিষ্টি আঙুরের চাষ শুরু হয়েছে, যা কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Side banner