শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সাফল্যের গল্প: ২২ বছরের তানিয়ার মাসে আয় লাখ টাকা

জীবন যাপন নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ১১:০১ এএম
ফ্রিল্যান্সিংয়ে সাফল্যের গল্প: ২২ বছরের তানিয়ার মাসে আয় লাখ টাকা

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার তরুণী তানিয়া খলিল—অল্প বয়সে বিয়ে, তারপর মাতৃত্ব—এসবের মাঝেই থেমে থাকেননি তিনি। সংসার, সন্তান আর পড়াশোনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি তৈরি করেছেন নিজের আলাদা পরিচয়: সফল ফ্রিল্যান্সার ও প্রশিক্ষক। মাত্র ২২ বছর বয়সেই তাঁর মাসিক আয় এখন প্রায় এক লাখ টাকা।

শুরুটা সংসার থেকেই

মাটিরাঙ্গা কলেজে পড়ার সময় ২০২১ সালে বিয়ে হয় তানিয়ার। স্বামী ইব্রাহিম খলিল ছিলেন পেশাদার ফ্রিল্যান্সার, সেখান থেকেই তানিয়ার আগ্রহ জন্ম নেয় এই খাতে। সংসার দেখাশোনার পাশাপাশি ঘরে বসে কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ফ্রিল্যান্সিং শেখার সিদ্ধান্ত।

তানিয়া বলেন, “রং থেকে শুরু করে টাইপোগ্রাফি—সবই তখন অচেনা ছিল। কিন্তু আগ্রহ থাকায় খুব দ্রুত শিখে ফেলি।”

২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথম কাজ পান তিনি—একটি লোগো ডিজাইন। আয় হয়েছিল ১৩ ডলার। তানিয়ার ভাষায়, “প্রথম আয় আমাকে বদলে দেয়। মনে হয়েছিল, পারব।”

দুজনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণকেন্দ্র

২০২৩ সালে স্বামী-স্ত্রী দুজন খাগড়াছড়ি সদরে চলে আসেন এবং সেখানেই গড়ে তুলেছেন ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র। দোতলা বড় কক্ষে সারিবদ্ধ ল্যাপটপে তরুণীরা কাজ করছেন—এমন দৃশ্য এখন নিয়মিত।

গ্রাফিক ডিজাইনের পাশাপাশি ব্র্যান্ড আইডেনটিটি, বিজনেস কার্ড, লেটারহেডসহ নানা কাজে এখন দক্ষ তানিয়া। ফাইভার ও আপওয়ার্ক—দুই মার্কেটপ্লেসেই নিয়মিত কাজ করেন তিনি।

নারীদের নিয়ে এগিয়ে চলা

শুধু নিজে উপার্জনেই থেমে থাকেননি তানিয়া। ‘খলিল আইটি’–তে যুক্ত হয়ে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি। অনেকেই এখন ঘরে বসে স্থায়ীভাবে আয় করছেন।

প্রশিক্ষণকেন্দ্রের শিক্ষার্থী সুমা জান্নাত বলেন, “চার মাস শিখেই কাজ শুরু করেছি। এখন মাসে ২০–৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারি।”

আরেক শিক্ষার্থী তৃণা রোয়াজা জানান, “আয়ের কারণে পরিবারকে সহায়তা করতে পারছি। পড়াশোনার খরচও চলে যায়।”

তানিয়ার মতে, “একটা কম্পিউটার, ইন্টারনেট আর মনোযোগ—এই তিনটিই ক্যারিয়ার গড়ার জন্য যথেষ্ট।”

সরকারি দপ্তরের প্রশংসা

খাগড়াছড়ি মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুস্মিতা খীসা বলেন, “নারীদের আইসিটি খাতে দক্ষ করে তুলতে সরকার কাজ করছে। তানিয়া খলিল নিজে দক্ষ হয়ে অন্য নারীদেরও এগিয়ে নিচ্ছেন—এটা প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে তাঁকে প্রশিক্ষক হিসেবেও বিবেচনা করা হবে।”প্রথম আলো

Side banner