শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
নিরাপদ বিনিয়োগে নিয়মিত আয় চান অনেকেই। তাঁদের জন্য জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর পরিচালিত ‘তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র’ দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া এই সঞ্চয়পত্র এখনো মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশাল একটি অংশের কাছে নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস।
চলুন এই সঞ্চয়পত্রের সব তথ্য এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—
মূল্যমান কী কী?
এই সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায় চার ধরনের মূল্যমানে
১ লাখ টাকা, ২ লাখ টাকা, ৫ লাখ টাকা এবং ১০ লাখ টাকা
কোথায় পাওয়া যায়?
ক্রয় ও ভাঙানো যাবে— জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ডাকঘরে।
মেয়াদ ও মুনাফার হার
মেয়াদ: ৩ বছর
মুনাফার হার: সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে ১১.৮২%, এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৭৭%। তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ভাঙালে মুনাফার হার আরও কমে যায়। আর কেনার এক বছরের মধ্যে ভাঙালে কোনো মুনাফাই পাওয়া যাবে না।
উৎসে কর কত?
৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে: মুনাফার ওপর ৫% কর
৫ লাখ টাকার বেশি হলে: ১০% কর
কারা কিনতে পারবেন?
সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিক, স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, বিভিন্ন কৃষি ও উৎপাদন খাতের আয়–স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান
যেমন— মৎস্য, হাঁস–মুরগি ও গবাদিপশুর খামার, বীজ উৎপাদন ও বিপণন, উদ্যান ও ফলচাষ, রেশম গুটিপোকা খামার, পোলট্রি ফিড উৎপাদন ইত্যাদি
এ ছাড়া বিশেষভাবে বিনিয়োগ করতে পারবেন—
অটিস্টিকদের সহায়ক প্রতিষ্ঠান, অটিজমবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দুস্থ–অনাথ শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রবীণদের নিবন্ধিত আশ্রয়কেন্দ্রে।
কত টাকা পর্যন্ত কেনা যায়?
বিনিয়োগ সীমা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে ভিন্ন—
ব্যক্তি: একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা। যুগ্ম নামে ৬০ লাখ টাকা
প্রতিষ্ঠান (ভবিষ্য তহবিল): মোট স্থিতির ৫০%, সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা
ফার্ম: সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা
অটিস্টিক/দুস্থ/অনাথ/প্রবীণ সেবা প্রতিষ্ঠান: সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা
অতিরিক্ত সুবিধা: ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিশ্চিত মুনাফা প্রদান, নমিনি যুক্ত করার সুযোগ, ক্রেতার মৃত্যুর পর নমিনি চাইলে সাথে সাথে ভাঙাতে পারবেন, অথবা মেয়াদ পর্যন্ত প্রতি তিন মাসে মুনাফা তুলতে পারবেন।