বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২
আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রান্নাঘরেও এসেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। আগুনের ঝুঁকি, ধোঁয়া আর গ্যাস সংকটের বিকল্প হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইলেকট্রিক চুলা—বিশেষ করে ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা। দ্রুত রান্না, নিরাপত্তা ও সহজ ব্যবহারের কারণে শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এর চাহিদা বাড়ছে।
বাংলাদেশের বাজারে ইলেকট্রিক চুলা মূলত দুই ধরনের—
ইন্ডাকশন চুলা: চৌম্বকীয় (ম্যাগনেটিক) পাত্রে কাজ করে। রান্না দ্রুত হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক কম।
ইনফ্রারেড চুলা: কাচ, স্টিলসহ যেকোনো পাত্র ব্যবহার করা যায়। ব্যবহার সহজ হলেও রান্নার পর কিছুক্ষণ চুলা গরম থাকে।
দামের দিক থেকেও রয়েছে ভিন্নতা—
সাধারণ হিটার কয়েল চুলা: ৫০০–১,০০০ টাকা
ব্র্যান্ডেড ইন্ডাকশন/ইনফ্রারেড চুলা: ৩,০০০–৬,০০০+ টাকা
(ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে দাম পরিবর্তিত হয়)
আধুনিক ফিচার
বর্তমান ইলেকট্রিক চুলাগুলোতে থাকছে নানা স্মার্ট সুবিধা, যেমন—
চাইল্ড লক
ওভারহিট প্রোটেকশন
টাইমার
টাচ কন্ট্রোল সিস্টেম
সাধারণত ১০০০ থেকে ২০০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রিক চুলা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১–২ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে, যা নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে বেশ সাশ্রয়ী।
বাংলাদেশে ইলেকট্রিক চুলার বাজারে যেসব ব্র্যান্ড বেশি জনপ্রিয়—
ভিশন (Vision)
কিয়াম (Kiam)
ফিলিপস (Philips)
শার্প (Sharp)
ওয়ালটন (Walton)
ইলেকট্রিক চুলার প্রধান সুবিধাগুলো হলো—
নিরাপত্তা: খোলা আগুন না থাকায় বিস্ফোরণের ঝুঁকি নেই
পরিচ্ছন্নতা: ধোঁয়ামুক্ত রান্না ও সহজ পরিষ্কার
দ্রুততা: দ্রুত গরম হয়, সময় বাঁচায়
ব্যবহার করার আগে সতর্কতা
তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—
লো ভোল্টেজে চুলা ঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে বা নষ্ট হতে পারে
ইনফ্রারেড চুলা ব্যবহারের পর কিছুক্ষণ গরম থাকে, তাই সাবধানতা প্রয়োজন
শেষ কথা
নিরাপদ, ঝামেলাহীন ও আধুনিক রান্নার জন্য ইলেকট্রিক চুলা আজ অনেকের প্রথম পছন্দ। সঠিক ব্যবহার ও ভোল্টেজ নিশ্চিত করা গেলে এটি হতে পারে গ্যাসের একটি কার্যকর বিকল্প।