বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১

প্রাথমিকে ডিপিএড ও সিইনএড কোর্স নিয়ে পিটিআই সমিতির ১০ দফা সুপারিশ

জীবন যাপন নভেম্বর ২৭, ২০২২, ০৩:০৮ পিএম
প্রাথমিকে ডিপিএড ও সিইনএড কোর্স নিয়ে পিটিআই সমিতির ১০ দফা সুপারিশ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ যোগ্যতায় শিক্ষা বিষয়ক ডিগ্রি আবশ্যক না করা পর্যন্ত পিটিআইতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ডিপিএড ও সিইনএড কোর্স চালু রাখতে চায় বাংলাদেশ পিটিআই কর্মকর্তা সমিতি। এ নিয়ে সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদনপত্র দেয় সংগঠনটি। 

এতে বলা হয়েছে, প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলো (পিটিআই) প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দক্ষ শিক্ষক তৈরিতে যুগ যুগ ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রাথমিক শিক্ষার পরিমাণগত ও গুণগত মানোন্নয়নে ১২টি আধুনিক পিটিআই স্থাপন, আইসিটি ল্যাব প্রতিষ্ঠা, স্মার্ট মাল্টিমিডিয়া শেণিকক্ষ স্থাপন, সার্বক্ষণিক ইন্টারনেটের ব্যবস্থা, প্রতিটি পিটিআইতে মাইক্রোবাস প্রদান, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মানোন্নয়নের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া পিটিআইগুলোতে ল্যাপটপ প্রদান, নতুন ইন্সট্রাক্টর ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্টের পদ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। 

এতে প্রাথমিক শিক্ষার পরিমাণগত মান উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে গুণগত মানোন্নয়নে আমাদের পথ চলার সূচনা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে পিটিআইয়ের মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।

বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ যোগ্যতায় শিক্ষাবিষয়ক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। ফলে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের প্রায় ৯৯ ভাগেরই শিক্ষাবিষয়ক ডিগ্রি থাকে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের শিক্ষাদানের মতো একটি টেকনিক্যাল, জটিল ও কঠিন কাজ নিখুঁতভাবে সম্পাদনের জন্য এ বিষয়ে গভীর জ্ঞান ও অনুশীলন প্রয়োজন। এজন্য বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের পরপরই ডিপিএড/সিইনএড কোর্স করার সুযোগ প্রদান করা হয়। যার মাধ্যমে নবীন শিক্ষকরা শিক্ষার মান অর্জনের মাধ্যমে দক্ষ হিসেবে গড়ে উঠেন।

এ অবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ যোগ্যতায় শিক্ষাবিষয়ক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক না করা পর্যন্ত পিটিআইতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ও প্রতিষ্ঠিত ডিপিএড/সিইনএড কোর্স চালু রাখার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি। 

ডিপিএড কোর্সের মৌলিক পরিবর্তন না করে কোর্সটিকে কার্যকর করার জন্য ১০ দফা সুপারিশও করেছে সংগঠনটি। সুপারিশগুলো হলো—

১. শূন্য পদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ দেওয়া দরকার। সেটি সম্ভব না হলে কর্মরত ইন্সট্রাক্টরদের সংখ্যা অনুযায়ী পিটিআইগুলোর আসন পুনঃনির্ধারণ করা যেতে পারে। জনবলের ঘাটতি কোনোভাবেই কার্যকর ডিপিএড কোর্সের জন্য সহায়ক নয়। সঙ্গে সঙ্গে পিটিআইয়ের জনবলের ঘাটতি সঠিক অ্যাকাডেমিক সুপারভিশনে প্রভাব বিস্তার করে, তাই জনবলের ঘাটতি পূরণ আবশ্যক। পর্যাপ্ত সংখ্যক ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ নিশ্চিত হলে ডিপিএড কোর্সের মান বৃদ্ধি পাবে।

২. প্রত্যেক ইন্সট্রাক্টরকে ২০ জন করে শিক্ষার্থীর দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে এবং প্রতিদিন পাঁচজন করে শিক্ষার্থীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা প্রদান করা।

৩. ইতোপূর্বে ডিপিএড কোর্স শেষে বেতন কমে যাওয়ায় ডিপিএডয়ের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। ডিপিএড কোর্স শেষ করার পরে একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট প্রদান করার সুযোগ রাখা যেতে পারে। এতে শিক্ষকদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হবে।

৪. ডিপিএডয়ের প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ের সুপারভিশনের জন্য তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক প্লাটফর্ম তৈরি করা। প্রয়োজনে ই-প্রাইমারি স্কুল সিস্টেমের সঙ্গে সেটিকে সংযুক্ত করে দেওয়া।

৫. ডিপিএড কোর্সের মূল্যায়ন বিষয়ক যে গবেষণাগুলো ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, তার প্রতিবেদনগুলো নিয়ে একটি পর্যালোচনা কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে পিটিআইসহ প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের করণীয় নির্ধারণ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

৬. ডিপিএড কার্যক্রমে অনলাইন, অফলাইন ও ব্লেন্ডেড মোডালিটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭. ডিপিএডয়ের ধারণা পরিষ্কার করতে ইতোপূর্বে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের জন্য ডিপিএডয়ের ওরিয়েন্টেশন চালু ছিল। বর্তমানে সেটি বৈশ্বিক মহামারি প্রেক্ষিতে অনলাইনে আয়োজন করা যেতে পারে।

৮. মাঠ পর্যায়ে শিক্ষকদের যথাযথভাবে ডিপিএডয়ের মনিটরিং নিশ্চিত করতে এইইও, ইউইও, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর এবং সহকারী ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরগণের ডিপিএডয়ের ওরিয়েন্টেশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাহলে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন ডিপিএড কোর্স সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত হবেন এবং ডিপিএড কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হবে।

৯. অ্যাসাইনমেন্ট ও অ্যাকশন রিসার্চের সংখ্যা কমিয়ে মান উন্নত করতে হবে।

১০. পৃথিবীর অনেক দেশে শিক্ষক নিয়োগ যোগ্যতায় শিক্ষাবিষয়ক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক রয়েছে, প্রয়োজনে বাংলাদেশেও প্রি-সার্ভিস ডিপিএড কোর্স চালু করা যেতে পারে। এতে সরকারের ব্যয় কমবে এবং মান বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন

Side banner