শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

ঘর নির্মাণে ঋণ, সর্বনিম্ন মাসিক কিস্তি ৭০৭ টাকা: কী লাগবে, কে নিতে পারবে

জীবন যাপন নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৮:১৫ পিএম
ঘর নির্মাণে ঋণ, সর্বনিম্ন মাসিক কিস্তি ৭০৭ টাকা: কী লাগবে, কে নিতে পারবে

দেশের কৃষকদের আবাসন নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (এইচবিএফসি)। ‘কৃষক আবাসন ঋণ’ নামে নতুন এ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজ আবাসস্থলে ঘর নির্মাণে সহজ শর্তে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন সচ্ছল ও স্থায়ী কৃষকেরা।

এইচবিএফসি জানায়, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ ঋণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংস্থাটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি নিজের জমিতে বা লিজ নেওয়া জমিতে কৃষিকাজ করেন, কিংবা অন্যের জমিতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন—তাঁরাই এই কর্মসূচির আওতায় কৃষক হিসেবে বিবেচিত হবেন। কৃষকের নিজের আবাসিক জমিও ঋণের অন্তর্ভুক্ত ধরা হবে।

কে আবেদন করতে পারবেন?

উপশহর, উপজেলা সদর ও গ্রোথ সেন্টার এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং সচ্ছল কৃষকেরা এ ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যোগ্যতার শর্ত

১. জন্মসূত্রে বাংলাদেশি ও সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
২. নিজের নামে ঘর নির্মাণযোগ্য জমি থাকতে হবে।
৩. নির্মাণস্থলে উপযুক্ত রাস্তা ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ থাকতে হবে।
৪. অনুমোদিত মানচিত্র (প্ল্যান) অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণ করতে হবে।
৫. মাসিক কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা থাকতে হবে।
৬. আবেদনকারীকে পূর্ণবয়স্ক, সুস্থ ও চুক্তি করার যোগ্য হতে হবে।
৭. বয়স ১৮ বছর বা এর বেশি হতে হবে; ৬৫ বছরের বেশি হলে জামিনদার প্রয়োজন।
৮. নিযুক্ত জামিনদার নিজে পরে এ ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
৯. আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তিরা অযোগ্য।
১০. ঋণের বিপরীতে যে সম্পত্তি দেখানো হবে তা দায়মুক্ত হতে হবে।
১১. একই এলাকায় আগে থেকেই পাকা বাড়ি থাকা ব্যক্তি এ কর্মসূচির আওতায় নতুনভাবে ঋণ পাবেন না।
১২. যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব থাকতে হবে—ঋণ বিতরণ ও কিস্তি আদায় এই হিসাবেই হবে।

কত টাকা ঋণ পাওয়া যাবে?

এই কর্মসূচিতে একক বা গ্রুপ—দুইভাবেই ঋণ নেওয়ার সুযোগ আছে।
ভবনের ধরন অনুসারে কৃষকেরা সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারবেন।
সুদের হার নির্ধারিত হয়েছে ৭ শতাংশ।

কিস্তি কত হবে?

ঋণ পরিশোধের জন্য বিভিন্ন মেয়াদি কিস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতি ১ লাখ টাকা ঋণের জন্য মাসিক কিস্তি হবে—

৫ বছর মেয়াদে: ১,৯৮১ টাকা

১০ বছর মেয়াদে: ১,১৬২ টাকা

১৫ বছর মেয়াদে: ৮৯৯ টাকা

২০ বছর মেয়াদে: ৭৭৬ টাকা

২৫ বছর মেয়াদে: ৭০৭ টাকা

ঋণগ্রহীতা তাঁর আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী সুবিধাজনক মেয়াদ বেছে নিতে পারবেন।

Side banner