শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি: এখনই যেসব কাজ শুরু করা জরুরি

জীবন যাপন নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ১১:৩১ এএম
বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি: এখনই যেসব কাজ শুরু করা জরুরি
বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি: এখনই যেসব কাজ শুরু করা জরুরি

বিদেশে পড়াশোনা করার স্বপ্ন আজ অনেক শিক্ষার্থীর। তবে এই যাত্রা সফল করতে হলে প্রস্তুতি শুরু করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলাফল, ভাষাজ্ঞান, নেতৃত্বগুণ এবং পরিকল্পনা—এই চার উপাদান পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ফলাফলের যত্ন নিন—প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে

বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে চাইলে প্রথম শর্ত হচ্ছে ভালো অ্যাকাডেমিক রেকর্ড। সাধারণভাবে ৪-এর মধ্যে ৩.৫০ সিজিপিএকে উপযুক্ত ধরা হয়। তবে সিজিপিএ কম হলেও সুযোগ পাওয়া অসম্ভব নয়—শুধু প্রতিযোগিতা বাড়বে।
তাই ব্যাচেলরস বা মাস্টার্সের শেষ সেমিস্টারেও রেজাল্ট উন্নত করার চেষ্টা অত্যন্ত জরুরি।

আইইএলটিএস, টোফেল—ভাষাজ্ঞান আপনাকে এগিয়ে নেবে

আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ইংরেজি দক্ষতা বড় বিষয়। আইইএলটিএস বা টোফেল থাকলে আবেদনকারীর গ্রহণযোগ্যতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
আইইএলটিএসে ৬.৫ বা তার বেশি স্কোর হলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা সাধারণত বেশি থাকে।
অনেক দেশ ডুওলিংগো বা মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন (MOI) গ্রহণ করলেও ভাষাজ্ঞান যত ভালো হবে, ততই সফলতার সম্ভাবনা বাড়বে।

নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা দেখান—বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্ব দেয়

বিদেশে জীবন মানে আত্মনির্ভরতা। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবেদনকারীর নেতৃত্বগুণ, দায়িত্ববোধ ও মানসিক দৃঢ়তা গুরুত্ব দিয়ে দেখে।
টিমওয়ার্ক, ক্লাব কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবা, খেলাধুলা কিংবা সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতা আবেদনপত্রে অতিরিক্ত সুবিধা এনে দেয়।
এসব অভিজ্ঞতা সত্যিকারেই দেখায়—আপনি নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারবেন।

লক্ষ্য নির্ধারণ ও পরিকল্পনা—প্রস্তুতির মূল ধাপ

প্রথমে ঠিক করুন—কোন দেশে এবং কোন বিষয়ের ওপর উচ্চশিক্ষা নিতে চান।
অনেক পরামর্শকই বলেন, একক দেশ বা একক প্রোগ্রামে সীমাবদ্ধ না থেকে একাধিক দেশে চেষ্টা করা বেশি যুক্তিযুক্ত।
সাধারণত ইংরেজিভাষী দেশগুলোতে ভাষাগত সুবিধা, চাকরির সুযোগ এবং স্থায়ীভাবে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এরপর ইউরোপ, তারপর আরব দেশ এবং শেষে এশিয়ার দেশগুলো বিবেচনা করা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা করুন

  • নিজের প্রোফাইল অনুযায়ী অন্তত ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিন।
  • প্রতিটির আবেদন–ডেডলাইন নোট করে রাখুন।
  • গুগল ডকস, শিটস বা এক্সেল ব্যবহার করলে পরিকল্পনা গুছিয়ে রাখা সহজ হয়।

এসওপি, সিভি, রেকমেন্ডেশন—সব প্রস্তুত রাখুন

  1. দুই পৃষ্ঠার মধ্যে সিভি
  2. নিখুঁত স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP)
  3. প্রয়োজনীয় মোটিভেশন লেটার

শিক্ষকদের রেকমেন্ডেশন

এসব প্রস্তুত করতে ইউটিউব ও গুগলে অসংখ্য টেমপ্লেট ও টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। সার্টিফিকেট ও একাডেমিক নথিও আগেভাগে সাজিয়ে রাখাই ভালো।

ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুতি

বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারভিউ নিয়ে থাকে। এখানে মূলত দেখা হয়—

  • আপনি কেন প্রোগ্রামটি করতে চান
  • সিভিতে যা লিখেছেন তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য
  • বিষয়টি সম্পর্কে আপনার ধারণা কতটুকু

অনলাইন কোর্স—বিশেষত কোর্সেরা—ইন্টারভিউ প্রস্তুতিতে কার্যকর হতে পারে।

অফার পেলে এরপর কী?

অ্যাডমিশনের অফার পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে ভিসার আবেদন করতে হবে।
ভিসা হয়ে গেলে বাসা, বিমান টিকিটসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। স্থানীয় স্টুডেন্ট কমিউনিটির সহায়তা এ ক্ষেত্রে কার্যকর।

লেখক : সাকলাইন মোস্তাক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, যুক্তরাষ্ট্র

Side banner