সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

কাতার বিশ্বকাপে পশ্চিমা পোশাকের পরিবর্তে এবার হিজাবে উচ্ছ্বসিত অনেকেই

জীবন যাপন নভেম্বর ২৮, ২০২২, ১২:২৫ পিএম
কাতার বিশ্বকাপে পশ্চিমা পোশাকের পরিবর্তে এবার হিজাবে উচ্ছ্বসিত অনেকেই

সবার নজর এখন বিশ্বকাপ ফুটবলের দিকে। এবারই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে বসেছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। ২০ নভেম্বর জমকালো আয়োজনের মধ্যদিয়ে কাতারে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল চলবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। খেলা উপভোগ করতে বহু দর্শক ছুটে গেছেন কাতারে। দেশটির বিভিন্ন শহর ঘুরেও দেখছেন তারা। মুসলিম ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপকরণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।

ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে কোনো কিছুই মিস করতে চান না দর্শকরা। এবার মুসলিমদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের একটি উপকরণ হিজাব পরার স্বাদও নিচ্ছেন অনেকে। ইনস্টাগ্রামে ভেসে বেড়াচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের হিজাব পরার সেসব ছবি।

কাতার ‘দাওয়া’ বা আমন্ত্রণের মুহূর্তগুলো সুন্দর করে তুলেছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ইসলামের নানা ঐতিহ্য ফুটবলের দর্শকদের কাছে তুলে ধরছেন কাতারের নাগরিকরা।

অনেক নারী দর্শককে হিজাব পরিয়েও আনন্দ দিচ্ছেন তারা। আর বিদেশি ফুটবলপ্রেমীরা সেই ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানাতে কুণ্ঠাবোধ করছেন না। বরং অনেকেই প্রথমবার হিজাব পরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটবল আয়োজনের স্বেচ্ছাসেবীরা নারী দর্শকদের হিজাব পরিয়ে আনন্দ দিচ্ছেন। বিশেষ করে যারা বিশ্বকাপের খেলা দেখতে প্রথমবার কাতারে গেছেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একজন স্বেচ্ছাসেবক এক নারী দর্শককে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি হিজাব পরতে চান?

ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত ওই নারী বলেন, ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই। এরপর হিজাব পরে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো উদ্বোধনী পর্বে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত পাঠ করা হয়। মার্কিন অভিনেতা মর্গান ফ্রিম্যান ও কাতারের তরুণ ঘানিম আল-মিফতাহের সংলাপে দেওয়া হয় ইসলামের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা। ফুটবল অনুরাগীদের কাছে ইসলামের পরিচিতি ও মুসলিম সংস্কৃতি তুলে ধরতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে কাতারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এর আগে ২০০২ সালের বিশ্বকাপে দুই স্বাগতিক জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার আয়োজন চলাকালে স্টেডিয়াম কিংবা স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবলপ্রেমীদের হাতে শোভা পাচ্ছিল ঐতিহ্যবাহি হাতপাখা।

৮ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার আয়োজনে ফুটবলভক্তরা পরিচিত হন ভুভুজেলার সঙ্গে। ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ভুভুজেলার অপব্যবহারের কারণ দেখিয়ে স্টেডিয়াম থেকে তা নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল প্রশাসন একে দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবলের অঙ্গ হিসেবে উপস্থাপন করে। পরে ফিফা ২০০৯ সালে কনফেডারেশন কাপ ও ২০১০ বিশ্বকাপ ফুটবলে ভুভুজেলা ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

সূত্র: ইন্দোনেশিয়া পোস্ট, আল-জাজিরা

আরও পড়ুন

Side banner