বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

১ হাজার ১৫৬ জন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হচ্ছে

জীবন যাপন নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০৩:২২ পিএম
১ হাজার ১৫৬ জন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হচ্ছে
শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সারাদেশের ১ হাজার ১৫৬ জন জাল সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা হবে। এমপিও বাবদ তাদের নেয়া সব টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠাতে হবে। তারা আর শিক্ষকতাও করতে পারবেন না।  

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) চিহ্নিত করা জাল সনদধারীদের মধ্যে ৮১৭ জন বিভিন্ন সাধারণ স্কুল কলেজে কর্মরত। ৩৩৯ জন আছেন বিভিন্ন মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। স্কুল কলেজে কর্মরত ৮১৭ জনের জাল সনদ নিশ্চিত হতে আগামী ২৪ নভেম্বর সভা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

সূত্র জানিয়েছে, এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নিরীক্ষা ও আইন শাখার যুগ্মসচিব মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস। ২৪ নভেম্বর সকালে তার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। সভায় এনটিআরসিএর পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন শাখার সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সচিব বা তার প্রতিনিধি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নিরীক্ষা ও আইন শাখার উপসচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বা তার প্রতিনিধি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার পরিচালক, ডিআইএর পরিচালক, বগুড়ার নট্রামসের পরিচালক ও ডিআইএর যুগ্মপরিচালককে অংশ নিতে বলা হয়েছে।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখার সহকারী সচিব মো. সেলিম শিকদার দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, যাচাই বাছাই শেষে যাদের সনদ আসলেই জাল তাদের তথ্য আমরা এমপিও শাখায় পাঠাবো। যারা জাল সনদ নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন তারা আর চাকরি করতে পারবেন তো না-ই, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা হবে ও তাদের এমপিও বাবদ নেয়া সব টাকা ফেরত দেয়া হবে। জাল সনদধারীদের পক্ষে আসা কোনো রিকোয়েস্ট শোনা হবে না। আমরা কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা নেবো। 

জানা গেছে, জাল সনদধারীদের মধ্যে ৭৯৩ জন শিক্ষক নিবন্ধন সনদ, ২৯৬ জন কম্পিউটার সনদ ও ৬৭ জন বিএড-সাচিবিক বিদ্যাসহ অন্যান্য সনদ জালের দায়ে অভিযুক্ত। যাদের বেশিরভাগই এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) ভুক্ত। ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এ অবধি বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা আত্মসাৎ করছেন তারা। 

ডিআইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে জাল সনদধারী শিক্ষক আছেন ৪৪৩ জন। তাদের মধ্যে স্কুল-কলেজে কর্মরত ৩২৩ জন। মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে আছেন ১২০ জন। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে জাল সনদে শিক্ষকতা করছেন ৩৬৬ জন। তাদের মধ্যে স্কুল ও কলেজে কর্মরত ২৫৬ জন, যাদের কাছ থেকে ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে। এ দুই বিভাগের মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন ১১০ জন, যারা ৪ কোটি ৩৫ লাখেরও বেশি টাকা জাল সনদে এমপিও বাবদ আত্মসাৎ করেছেন।  

চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে জাল সনদে কর্মরত ৯৬ জন। যাদের মধ্য স্কুল কলেজে কর্মরত  ৪৪ জন এবং মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ৫২ জন। তাদের কাছ থেকে ৩ কোটি ৩ লাখ ৪৭ হাজারেরও বেশি টাকা ফেরত নেয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ। 

খুলনা ও বরিশাল বিভাগে জাল সনদধারী ২৫১ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। যাদের মধ্যে স্কুল কলেজে আছেন ১৯৪ জন এবং মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ৫৭ জন। এ দুই বিভাগের জাল সনদধারী স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকে ১১ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি টাকা এবং মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের জাল সনদধারী শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা ফেরত নেয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ। 

Side banner